অবলিভিয়ন- Oblivion: A Past Of Future
হঠাৎ করে একটা ফোনে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সকাল 11 টা। কাল রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরেছি। কিছুতেই আজকের তারিখটা মনে করতে পারছি না। ফোন কলের কথাও বেমালুম ভুলে গেছি। আবার রিং বাজাতে হুঁশ হলো। ওপাস থেকে নিজের কলিগ ইভানের কন্ঠ ভেসে এলো। ঘটনার সারমর্ম শুনে কৌতুহল জমলো মনে। গায়ে জ্যাকেট চাপিয়ে বের হলাম।
শীত যেন বেড়ে গেছে আরো। গ্যারেজ থাকা নিজের গাড়িতে বসলাম। স্বয়ংকৃয় কন্ঠস্বরে কথা বলে উঠলো লরা নামের মডিউলটা।
-শুভ সকাল, স্যার।
-শুভ সকাল লরা।
-আজকে আপনার ৩টা মিটিং এটেন্ড করার কথা, আপনি এর মাঝে একটির শিডিউল মিস করেছেন। দুপুরে অফিস কলিগের সাথে তাদের বাসায় যাওয়ার কথা, আর....
-লরা, থাক এসব। আমায় ৪নং স্ট্রীটের, ৮নং বাড়িতে পৌঁছে দাও। জরুরী কাজ আছে। নতুন কেস পেয়েছে ইভান। যাওয়া যাক।
-তাহলে আমি আপনার আইডি আজকের জন্য ইনভিসিবল করে দিচ্ছি।
-ধন্যবাদ লরা।
আধুনিক পোরশে মডেলের ব্ল্যাক গাড়িটা নিঃশব্দে রাস্তায় উঠে এলো। লরা নামের কম্পিউটার প্রোগ্রামড ডিভাইস গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। বরফ পড়ছে হালকা। নিজের অতীত খুব টানে আমায়। কাঁচের উপর জমে থাকা কুয়াশায় নিজের নাম লিখতে খুব পছন্দ করতো শুভ্রা।
-দেখেছো, আমি কত সুন্দর করে নাম লিখেছি আমাদের? কি হলো, দেখো... উফফফ... তোমার ফাইলগুলো কি আমাদের পারসোনাল টাইমেও পিছু ছাড়বে না?
-হুম, এই তো আর অল্প।
-রাখো তোমার অল্প। তাকাবে না তুমি? আমি কিন্তু মুছে ফেলবো।
-না না থাক। বাহ... দারুন হয়েছে।
শুভ্রা অল্পতেই খুশি হয়ে যেতো। ছোট কিছু ব্যাপারেই এতো খুশি ও কি করে খুঁজে পেতো জানিনা। কুয়াশায় লেখা আমাদের নামগুলো সে মুছতো না। অপেক্ষা করতো সূর্য ওঠার। তারপর আমার নামের উপর চুমু দিয়ে দিতো। যদি জিজ্ঞেস করতাম নিজের নামেও কেন দেয় না সে? তখন ফিক করে হেসে বলতো,"....
"স্যার, আমরা পৌঁছে গেছি।" লরার কথায় হুঁশ ফিরলো। সিট বেল্ট খুলে বের হতেই ইভানকে পেলাম।
"স্যার আপনাকে জাগাতে চাইনি। কিন্তু ঘটনাই এমন যে নিজেকে আটকাতে পারিনি।"
ঘরটাতে ঢুকলাম। যেন মনে হলো কোন কবরে নেমেছি। অন্ধকার অনেক। সামনের রুমগুলোতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিকিউরিটি এজেন্টরা তথ্য সংগ্রহ করছে। তাদের পাশ কাটিয়ে এক পাশে দাঁড়ালাম।
-ভাবা যায় স্যার? কেউ ১৫০ বছর আগে এই দিনের জন্য এই সব করে গেছে!!!!
-আমিও যে অবাক হইনি তা নয়। এখন বলো দেখি কি জানতে পারলে।
-কাল রাত ঠিক ১২টায় এই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে হঠাত উজ্জ্বল আলো বের হতে লাগলো। সাথে বিস্ফোরণ। স্থানীয় গার্ড ভয় পেয়ে আমাদের জানালো। কিন্তু রাতে প্রচন্ড তুষার ঝড়ের কারণে আমরা আসতে পারিনি। সকালে আমি এলাম। রাস্তায় জমে থাকা বরফ পরিষ্কার করে আপনাকে ফোন করলাম। বুঝলেন স্যার, টেকনোলজি অনেক এগিয়েছে কিন্তু এখনো আমরা সামান্য তুষার ঝড়ের কাছে কিছুই না।
ইভানের হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনে হলো তারিখের কথা।
-আজ কত তারিখ ইভান?
-৪ ফেব্রুয়ারি, ২১৬৯। কেন স্যার? আপনার ঘড়ি কই?
-ঠিক মনে নেই।
পাশে থাকা চেয়ারে বসলাম। মাথা ধরে আছে। চিনচিন ব্যথা করছে ঘাড়ে। এটার ওষুধ, কি যেন নাম, এখন আর মাথায় আসছে না। শুভ্রার থাকতো।
-এই ওষুধের নাম চাফেজ।
-মানে? এটা আবার কেমন নাম?
-উফফফ, চা আর ম্যাসেজিং মিলিয়ে এই নাম। আমার হাতের চা না খেলে তো যায় না আপনার মাথা ব্যাথা।
-তা ঠিক। আর ম্যাসেজিং?
-ওটা ভালোবেসে আমার উপহার। আমার বেশ লাগে তোমার চুল টানতে আর ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিতে।
শুভ্রা খুব সুন্দর করে হাসতো। হাসি শুরু হলে এই মেয়েকে থামানো যেতো না। সারাদিন কাজের চাপ যতই হোক না কেন, বাড়ি ফিরে মনে হত আমি আজ কাজেই যাইনি। মনে আছে কত রাত আমি ঘুমিয়েছি তার কোলে, বাচ্চাদের মত আঁকড়ে রাখতো আমার মাথা।
-স্যার, দুটো কফিন পাওয়া গেছে বেসমেন্টে। স্টলস ১ রোবট খুঁজে বের করেছে এটা।
-ইভান, জানিনা কেন মনে হচ্ছে আমরা অনেক দূর অতীতে হাঁটতে যাচ্ছি।
-জ্বী স্যার।
-আমার জানার আগ্রহ বেশি।
-স্যার একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন? এই রুমগুলোতে তাপমাত্রা বেশি। আপনি, আমি, আমরা সবাই ঘামছি।
ইভানকে কিছু না বলে নিজের জ্যাকেট খুলে চেয়ারে রাখলাম। আসলেই তো! এই রুমগুলোতে তাপমাত্রা এমন হওয়ার কথা না। বাইরে বরফ জমে আছে অথচ এখানে ফায়ারপ্লেস না থেকেও এতো গরম!!!!
মাইক্রো ড্রোন পকেট থেকে বের করে পুরো বাড়ি স্ক্যান করার জন্য ছেড়ে দিলাম।
কফিন খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইভান আমার হাতে কফি দিল। ছেলেটা বোঝে আমার কখন কি চাই। ওর প্রমোশনের কথা ভাবছি।
কফিন থেকে বেড়িয়ে এলো একটা পেনড্রাইভ, একটা চশমা, প্লাস্টিকে মোড়ানো কিছু কাপড়।
মমি বা কংকাল এমনকি গুপ্তধন দেখার আশা করা মানুষগুলো হতাশ হলো। আর আমি কেন জানি অস্থির অনুভব করছি। রুমটা কেন এতো গরম? কেনইবা বন্ধ থাকা ঘর থেকে ১৫০বছর আগে ফিট করে রাখা আলো জ্বলবে? বিস্ফোরণ কিসের ছিল? এইসব উত্তর মাথায় আসবে না কিছুতেই।
লরাকে সিগনাল পাঠালাম। একটু পরেই পৌছে যাবে। ইভান হতাশ মনে এভিডেন্সগুলো হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্যাকেট মোড়ানো। কেন জানি নিয়ে নিলাম।
গাড়ির দরজা খোলা। ওঠা মাত্রই একটা আওয়াজ ভেসে উঠলো, "অফিসের ঝামেলা যদি শেষ হয় তাহলে বাসায় আসুন, আপনার বউ অপেক্ষা করছে।"
স্বরটা শুভ্রার। নিজেই রেকর্ড করে লরার ডিফল্ট ইনবক্সে সেট করে দিয়েছিল। উদ্দেশ্য আমায় শান্ত রাখা।
গাড়ি চলছে। কোলে এভিডেন্সগুলো। আকাশ অন্ধকার। আবার ঝড় আসবে। গাড়ি গ্যারেজে রেখে ঘরে এলাম।
খাওয়ার ইচ্ছা করছে না একটুও। শুয়ে পড়লাম বিছানায়। শুভ্রা থাকলে এভাবে না খেয়ে আমাকে ঘুমাতে দিত না।
-তুমি আবার না খেয়ে শুয়ে পড়েছ।
-ইচ্ছা করছে না।
-আমি কিন্তু অনেক রাগ করবো না খেলে।
-ঠিক আছে খেতে পারি যদি নিজের হাতে খাইয়ে দাও তো।
-ঠিক আছে বসো, আমি নিয়ে আসতেছি।
মাথাটা ভার হয়ে গেছে। আরেকটা কাপ কফি খেলে ভালো হতো। রোবটের মাধ্যমে বানানো কাপ কফিতে আমার মন বসে না।
তবুও না চাইতে বললাম এক কাপ কফি বানিয়ে দিতে ডেকোটা ১১ কে। এই রোবটই আমার ঘরের সমস্ত কাজ করে রাখে এখন।
অস্থির ভাব কাটানোর জন্যই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম এভিডেন্স গুলো বের করার। প্যাকেটে মোড়ানো কাপড় গুলো একপাশে রাখলাম। চশমা কেমন মলিন। পেনড্রাইভ হাতে নিয়ে চিন্তা করছি। এর মাঝেই ডেকোটা ১১ কফির কাপ নিয়ে হাজির।
-স্যার আপনার কফি।
-ধন্যবাদ।
-আর কিছু লাগবে স্যার?
-হ্যাঁ, এই পেনড্রাইভটা ফিউশন ওয়ালে লাগিয়ে দাও।
কফি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছি। ফিউশন ওয়াল আমার রেটিনা স্ক্যান করে চালু হলো।
প্রথমেই কেমন যেন একটা কার্টুন ভেসে উঠলো। খুব সুন্দর একটা লোগো ভেসে উঠলো। মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে লাগলাম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ততক্ষণ পর্যন্ত স্ক্রিনটা অন্ধকারই ছিল। একটু পর একটা ছেলের চেহারা ভেসে উঠলো। দূরে দাঁড়িয়ে থাকে একটা মেয়েকে আবছা আবছা বোঝা যাচ্ছিল। ভিডিওটা থামিয়ে দিলাম।
শুভ্রা ছাড়া আমি কখনো মুভি দেখতাম না। এই জিনিসটাই তখন হঠাৎ মাথায় চলতে লাগল তাই চুপ করে ছিলাম। অনেক বছর পর আজ এভাবে দেখতে বসলাম।
-ওই আমি আছি তোমার পাশে।
-তাইনা? এখন হঠাৎ করে আগমন হল আপনার! এতক্ষণ কোথায় ছিলে?
-আমি তোমার মাঝে মিশে আছি এবং থাকব।দেখি এটা ছাড়ো দেখি কেমন...
ভিডিওটা আবার ছাড়লাম। ছেলেটাকে আবার দেখা যাচ্ছে আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা তখনও আবছা অন্ধকারে। ছেলেটা হাসি মুখে কি যেন বলতেছে।
"আমি জানি আজকে ১৫০ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে। তুমি বা তোমরা যেই ভিডিওটা দেখছো না কেন, অবাক হয়ে তাকিয়ে আছো আমি জানি। খুব তো জানার ইচ্ছে করতেছে এই যে ১৫০ বছর পর কি করে ঘর থেকে এত আলো বের হলো অথবা বিস্ফোরণটা হলো কি করে বা আমার ঘর কেন এত গরম ছিল?
কৌতুহল থাকাটাই স্বাভাবিক। আর কিছু না পিওর সাইন্স। আমি জানি না আজ থেকে 150 বছর পর এই দুনিয়া কেমন হবে, কি কি নতুনত্ব আসবে, কে বাঁচবে কে মরবে, কতটা পরিবর্তন হবে কিছুই জানি না। শুধু জানি যে আমি চাই আমাদের ভালবাসাটা সবাই জানুক। ১৫০ বছর পরেও কেউ জানুক যে একজন আমার জীবনে ছিল। মিশে ছিল আমার সাথে।
যখন আমার আপনজনরাও আমার হাত ছেড়ে চলে গেছিল, তখন ও এসে আমার হাত ধরে ছিল। ও আমায় সাহস দিয়েছে। ও আমাকে আগলে রেখেছে। কখনো বুঝতেই দেয়নি যে আমি একা। ওকে আমি অনেক ভালোবাসি। কারণ সে আমাকে বুঝিয়েছে ভালোবাসা কত মহান। ও শিখিয়েছে সবাইকে ক্ষমা করতে যারা আমার সাথে একদিন ধোঁকাবাজি করেছে।
এমন মানুষটার জন্য আমি কি করতে পারি? এটাই সব সময় আমার মাথায় ঘুরতো এবং এখনও ঘুরে। তাই আমি সব সময় চেয়েছি আমাদের ভালোবাসার কথা সবাই জানুক। শুধু এক বছর দুই বছর বা দশ বছর না এমন হাজার হাজার বছর ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের ভালোবাসা। ১৫০ বছর কেন করলাম সেটা শুধুমাত্র আমি জানি। ও নিজেই বিশ্বাস করে না যে ১৫০ বছর পরেও কেউ আমাদের ভিডিওটা দেখবে। কিন্তু আমি জানি তুমি দেখছো আমাদের।
কারণ আমি জানি তুমিও একজনকে খুব ভালোবাসো। তোমার মাঝে একটা অপরাধবোধ ঘুরে বেড়ায় নিজের আপন মানুষটাকে বাঁচাতে না পারার। ওই কোনায় অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা, আমার ভালোবাসা। যার জীবনের আর কয়েকটা দিনই হয়তো আমার সাথে এসে একসাথে থাকতে পারবে। আমি যতটুকু পারি আমাদের একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে রেখে গেলাম। ১৫০ বছর পরেও ঠিকই ভিডিও তুমি দেখতে পাবে। আমি জানি তুমি খুব মনোযোগ দিয়ে ভিডিও দেখছো। আমি জানি তোমার মন খুব খারাপ। আমি জানি তুমি এখন আর ভিডিওটা না দেখে মাথা নিচু করে কান্না করছো। এভাবে কান্না করে কোন লাভ হবে না। তোমাকে আজীবন এভাবেই একের পর এক একের পর এক একের পর এক জীবন কাটাতে হবে। তোমার মৃত্যুর পর তোমার স্মৃতি অন্যজনের কাছে ট্রান্সফার হবে। আমি ওকে কথা দিয়েছি আমাদের স্মৃতি আজীবন থাকবে। প্রত্যেক ১৫০ বছর পর পর এভাবেই আমাদের স্মৃতি আবার ফুটে উঠবে। যদি তুমি মনে করো যে এটাই আসল ভিডিও তাহলে ভুল। আমি তো কখনই ভিডিওতে নেই। আমি তোমার স্মৃতিতে আছি। তোমার স্মৃতিতে আমি এবং ও দুজনেই আছি। মাথা নিচু করে কেন? তাকাও আমাদের দিকে। ভালো করে তাকিয়ে দেখো ওকে... দেখো, ভালো করে দেখো... ওর চশমাটা এখনো আছে তাই না? আর প্লাস্টিকে মোড়ানো আমাদের বিয়ের কাপড় গুলো? ঠিক আছে তো ওগুলো?
জানি ঠিক আছে। এবার আমার কথা মন দিয়ে শোনো। তুমি নিজেই ওই বাড়িতে গত কাল গিয়েছিলে। তুমি নিজেই সেখানে আলোর ব্যবস্থা করেছো যাতে পুরো ঘরটা গরম থাকে, গ্রাউন্ড ফ্লোরে। তুমি নিজেই সেখানে ডায়নামাইটস রেখে এসেছ যাতে বিস্ফোরণটা হয় আরো সবাই জেগে যায়। পরিত্যক্ত একটা বাড়িতে এত কিছু হচ্ছে যাতে সবাই জানতে পারে। তুমি ওই চেয়ারটাতে বসে ছিলে যেখানে আমি আর ও একসাথে আমাদের সময় কাটিয়েছি। তোমার মাথাব্যথা এইজন্যে হচ্ছে কারণ বিগত কয়েকটা দিন ধরে আমিই তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তুমি আমার ডাকে সাড়া দিয়ে ছিলে। তুমি নিজেই সব কিছু ব্যবস্থা করেছ। এখন তুমি জানো তোমাকে কি করতে হবে। আরো ১৫০ বছর বাঁচতে চাই আমরা। ওই ব্যবস্থা তুমি করবে।
কারণ, তুমিও শুভ্রাকে অসম্ভব ভালোবাসো।"
চোখ থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি গুলো মেঝেতে পড়ছে আমার। মাথা তুলে ফিউশন ওয়ালের দিকে তাকালাম। নিজেকে নিজে দেখতে পাচ্ছি ভিডিওটাতে। আবছা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার মুখ এখন আমার কাছে স্পষ্ট। অনেক বছর পর দেখতে পেলাম তোমাকে, শুভ্রা।
কুয়াশায় লিখে রাখা নামটা সবসময় চুমু দিয়ে রাখতে এই কারণে যাতে আমি মুছে না যাই অথচ তুমি মিলিয়ে যাও সূর্যের আলোতে। তুমি এমনই, তুমি এমনই। তাই আমি এতোটা মুগ্ধ। আমি বাঁচিয়ে রাখবো তোমার স্মৃতি, তোমার কথা, তোমার স্বর, তোমার অস্তিত্ব....। কিভাবে?
জানতে চাও? তাহলে ১৫০ বছর পর সামনাসামনি দেখে নিও, কোন এক ফিউশন ওয়ালে, ২৩২১ সালে।
Story by Hasan Ibrahim.
Copying without permission is strictly prohibited.


0 মন্তব্যসমূহ