Ticker

6/recent/ticker-posts

ধোঁয়া ওঠা অভিমানের গল্প

ধোঁয়া ওঠা অভিমানের গল্প 


“টেবিলের উপর এক কাপ চা।
কখন যে ঠান্ডা হয়ে গেছে কেউ জানে না? আরও কিছুক্ষণ আগে হয়তো এই চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠেছিল। কিন্তু এখন আর কোন ধরনের ধোঁয়া নেই। টেবিলের উপর একটা বিল পড়ে আছে। বিলের ঠিক পাশেই কিছু টাকা আছে। হয়তো যে লোকটা এখানে বসে ছিল কিছুক্ষণ আগে তার টাকা। সে চলে গেছে। কিন্তু অর্ডার করা খাবারটা সে আর খায়নি। ওই ভাবেই পড়ে আছে সবকিছু। পাশেই একটা জ্বলন্ত সিগারেট প্রায় নিভু নিভু করছে। এভাবেই হয়তো ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকে কিছু অব্যক্ত ঘটনা।” 

এতোটুকু বলে ইরফান থামলো। সামনে রঞ্জন বসে আছে। চোখে চোখ পড়তেই কথা বলে উঠলো।

-আচ্ছা, তুই কি দিন দিন আবেগী হয়ে যাচ্ছিস? এভাবে কবি কবি ভাব নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিস নাকি আগে থেকেই এমন ছিলি।
-তোর কি মনে হয় বলতো?
-আমার আবার কি মনে হবে? আমিতো যেমন আছি তেমনই ঠিক আছি।
-তোর খালি মনে হয় যে আমি হয়তো নতুন কিছু। আজ উঠি। আর হ্যাঁ, বিল দিয়ে দিয়েছি।

ব্যাগ গুছিয়ে ইরফান হাঁটতে শুরু করলো। তখনো রঞ্জন বসে। দূরে এক কোণে একটা আবছায়া যেন মিশে গেলো হঠাৎ। রঞ্জন চিনতে গিয়েও যেন চিনে উঠতে পারলো না। এদিকে সন্ধ্যা নেমে আসছে। বাধ্য হয়ে সে বাড়ির দিকে চললো। ভাবতে লাগলো ইরফানের কথা। ছেলেটা বদলায়নি একটুও। এখনো সে ততোটাই অভিমানী যেমনটা তার সাথে প্রথম সাক্ষাতে ছিল। 
-হাই, আমি রঞ্জন।
-আমি ইরফান। ফার্স্ট ইয়ার না?
-হ্যাঁ আর তুমি?
-কি মনে হয়? 
-আমার প্রথম মনে হয়েছিল সেকেন্ড ইয়ারে পড়ুয়া বড় ভাই। পরে হাতে ফার্স্ট ইয়ারের বই দেখে বুঝলাম আমরা একই ক্লাসে।
-ভুল ধারণা, আমি সেকেন্ড ইয়ারেই ছিলাম। ফেল করেছি তাই।

কথাটা শুনে রঞ্জন খুব হেসেছিল। তাই অভিমান করে উঠে চলে গেছিলো ইরফান। সামনে রাখা নাস্তাও খায়নি। সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। প্রায় ২ মাস পর কথা বলেছিল রঞ্জনের সাথে। ছেলেটা আসলেই বদলায়নি। 

বাসার সামনে এসে পৌঁছালো। কলিং বেলের আওয়াজ শুনে তমা দরজা খুলে দিলো। কোলে তাদের সন্তান অঞ্জন। নামটা ইরফানের দেয়া। বলেছিল বাপ বেটার নাম মিলিয়ে রাখাই ভালো। কোলে নিতেই খেয়াল করলো সোফায় মানহা বসে আছে। সাথে সাথেই রঞ্জনের হাসি মিলিয়ে গেল।
-তমা, আমি তোমায় কত বার বারণ করেছি? কিছু মানুষের জন্য আমার ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে চিরদিনের জন্য।
-আহ, রঞ্জু! থামবে তুমি? ও কত দূর থেকে এসেছে জানো?
-তমা, আমি শুধু এটা জানি যে এই মেয়ে মানুষকে তার অস্তিত্ব থেকে, তার আত্মসম্মান থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।
-প্লিজ তুমি থামো।
-কেন থামবো? ও থেমে ছিল? আমরা সবাই ওইদিন থামতে বলেছিলাম। যদি ও সেইদিন থেমে যেত, তাহলে আমি আমার বন্ধুকে হারাতাম না। ইরফানের অবস্থার জন্য ওই দায়ী। 

রঞ্জন বসলো চেয়ারে। রাগে চেহারা লাল হয়ে গেছে। মানহা তখনও বসে আছে সোফায়। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রঞ্জনের দিকে। চোখ থেকে পানি পড়ছেই। ওটা দেখে রঞ্জনের রাগ আরও বেড়ে গেল।

-এতোটা পাষাণ আমি কাউকে দেখিনি। আর তার চোখে পানি! আশ্চর্য হচ্ছি না মোটেও। তোমার দ্বারা সব সম্ভব।
-রঞ্জন দা.....
-প্লিজ, আমায় এতোটা রেসপেক্ট দেবেন না। হজম হবে না আমার। আমি নিজেও জানিনা আমি কি করে বসবো। তমা, প্লিজ ওকে চলে যেতে বলো।
-দাদা, আমি শুধু একবার ওর সাথে দেখা করতে চাই।
-কেন? ওর বাকি অস্তিত্বটাও কেড়ে নিতে চাও?
-দাদা, ওর সাথে আমার দেখা হওয়াটা জরুরি।
-ও কোথায় আছে আমি জানিনা।
-দাদা, আপনার পায়ে পড়ি। ইরফানকে আমার চাই।
-চুপ করো। তোমার মুখে ওর নাম শোনার ইচ্ছে আমার নেই। তমা, তুমি ওকে বের করবে বাসা থেকে নাকি আমি.....
-দাদা, আমার ক্যান্সার....। ব্লাড ক্যান্সার, লাস্ট স্টেইজ।
-আই ডোন্ট বিলিভ ইউ। তোমার এমন বাহানা আমি আগেও শুনেছি।

রঞ্জন মানহার হাত ধরে টানতে টানতে দরজা খুলে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলো। তমা অনেকবার মানা করছিলো। রঞ্জন কিছুই শুনলো না। দরজা বন্ধ করে তমার দিকে একবার তাকিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে গেলো। রাতের খাবার খেলো সবাই। তমা কথা বলছে না। অঞ্জনকে নিয়ে আগেই রুমে চলে গেছে। স্বামীর উপর রাগ জমেছে অনেক। একটা মেয়েকে এভাবে ঘাড় ধাক্কা দেবে ও ভাবতেই পারেনি তমা। তাও মেয়েটার মরণদশা জানা সত্তেও!
রঞ্জন রুমে এলো। বালিশ হেলান দিয়ে বসলো। অঞ্জনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। 
-একবারও ভাবলে না মেয়েটার কথা? এভাবে বের করে দিলে? কোথায় গেল এতো রাতে কে জানে? মেয়েটার ক্যান্সার এটা জেনেও তুমি বের করে দিলে? তোমায় কখনো এমন আচরণ করতে দেখিনি। আমি বিশ্বাস করতাম যে আমার স্বামী সব মেয়েকে সম্মান করে, কিন্তু আজ সেই বিশ্বাস ভাঙলে তুমি।
-বিশ্বাস? বিশ্বাস কি তমা? কারও প্রতি অগাধ আস্থা। কারও প্রতি অনেক সম্মান এটাই তো? ইরফানেরও ছিল। আমারও ছিল। আমাদের পুরো ক্যাম্পাসের ছিল। নিজ হাতে ওই বিশ্বাস ভেঙে ছিল মেয়েটা।
-কে ইরফান? তোমার এই বন্ধুকে তো আমিও দেখিনি। কিন্তু তোমার মুখে আমি এই নাম অনেক শুনেছি। কে এই লোক, যার জন্য এতো ঝামেলা হচ্ছে?

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রঞ্জন বলতে লাগলো।
-কলেজে ইরফান আর আমি একদম ক্লোজ বন্ধু ছিলাম। ও খুব সিরিয়াস আর চুপচাপ টাইপ ছেলে ছিল কলেজে। পড়াশোনা নিয়ে ভালোই ব্যস্ত থাকতো। ফার্স্ট ইয়ারে তখনই ওর নামের পাশে ব্রিলিয়ান্ট তকমা লেগে গেছিলো। ছয় মাসের সময় ক্লাসে নতুন চারজন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। মানহা তাদেরই একজন। জানিনা তাদের মাঝে ভালোবাসা কিভাবে হলো কিন্তু আমি দেখতাম ও খুব হাসি খুশি থাকতো। আমারও খুব ভালো লাগতো যে ছেলেটা হাসছে। শুনেছি ওর বাবা মা দুজনেই মারা গেছিলো অনেক আগে। এতিম ছেলেটার মুখে হাসি ফুটেছিল মানহাকে পেয়ে। কলেজের সবাই ওকে খুব ভালোবাসতো। তাই ওদের ভালবাসা খুব রেসপেক্ট পেয়েছিল আমাদের মাঝে।
-তারপর কি হল?
- সব ঠিক চলছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে মেয়েটার মাঝে পরিবর্তন চলে আসে। হঠাৎ করে দামী দামী কাপড় আর গয়না ও পরতে লাগলো। ইরফানের প্রশ্নের ও জবাব দিতো না। উল্টো বলতো যে ইরফান এখন আর ওকে বিশ্বাস করে না। ইরফান চুপ হয়ে যেতো এটা শুনে। আবার কয়েকদিন অভিমানের পর সব ঠিক চলতো।
-একটা ব্যাপার খটকা লাগলো আমার কাছে।
-কি ব্যাপার, তমা?
-তুমি বলেছিলে যে ওর সাথে পরিচয়ের সময় ও অলরেডি এক বছর ফেল করেছিল। অথচ তুমি বলছিলে ইরফান ভালো স্টুডেন্ট ছিল!

রঞ্জন যেন দম আটকে ফেলল। মাথা নিচু করে বলতে লাগলো বাকি ইতিহাস। 
-যে দূর্গাপূজায় তোমায় বিয়ের কথা বলেছিলাম, সেই দিনের বিকালের কথা মনে আছে তোমার?
-না থাকবে কেন? বিয়ের কথা বলেই যে তুমি অনিকের বাইকে করে হঠাৎ চলে গেলে। অনিক তোমায় নিতে এসেছিল।
-আমরা হাসপাতাল গেছিলাম। মানহা হাসপাতালে এডমিট ছিল। ইরফান ওর হাত ধরে কান্না করছিল। তখনই জানতে পারলাম ও অনেক আগে থেকেই মানহাকে চিনতো। মানহা ড্রাগ এডিক্ট ছিল আগে থেকে। লুকিয়ে লুকিয়ে ড্রাগ নিতো। অনেক চেষ্টা করে ভালো করে তুলেছিল ইরফান। মানহা পরীক্ষা দিতে পারেনি নাকি সেবার। পরের বছর আবার ওই কলেজে ভর্তি হবে জেনে ইচ্ছে করেই পরীক্ষায় ফেল করে ইরফান। শুনেছি সে নাকি বাংলা পরীক্ষার খাতায় পুরো পাতা জুড়ে “মানহাকে ভালোবাসি” লিখেছিল।
-তাহলে কেন এমন হলো ওদের সম্পর্কে? 

রঞ্জন তমার হাত ধরে কাছে টেনে নিল। তমাও ওর বুকে মাথা রাখলো।
-মানহা আবার ড্রাগ এডিক্ট হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সে আজে বাজে ছেলেদের পাল্লায় পড়ে পার্টিতে যাওয়া শুরু করে। ইরফানের কথা আর শুনতো না। ইরফান তবুও হাল ছাড়েনি। অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ও আর ফিরে আসেনি। আমরা সবাই বুঝিয়েছি মানহাকে। কিন্তু বড়লোকের মেয়ে, কাউকে পাত্তা দেয়নি। ইরফান হেরে গেছিলো অনেকটাই। শুধু মেনে নিতে পারেনি।
-তারপর কি হলো?
-আমায় একদিন ফোন করে বললো যে আজ ওর বিয়ে, ঠিক ৪টায় যেন আমি চৌধুরী প্লাজায় পৌঁছে যাই। আমি যেতে পারিনি সেদিন। 
-বিয়ে হয়েছিল?
-বিয়ে হয়নি। ইরফান আমার উপর রাগ করেছিল অনেকদিন। অনেক কষ্টে মান ভাঙিয়েছি। শান্তনা দিয়েছি।
- কোর্ট ম্যারেজ করতে যাচ্ছিল?
-হ্যাঁ। কিন্তু মানহা আসেনি। ব্যস, কাহিনি শেষ। আমরা আর কখনোই আর এই ব্যাপার নিয়ে কথা বলিনি। ইরফানও আর কথা বলেনি এটা নিয়ে। আমার চুপচাপ, মেধাবী বন্ধু আমার কাছেই ফিরে এসেছিল। আমি এটা নিয়েই খুশি আছি। কিন্তু জানিনা আজ মানহা কেন এলো, কিন্তু আমি আর ওকে ইরফানের খবর দেবো না।

তমা রঞ্জনকে আঁকড়ে ধরলো। নিজের স্বামীর প্রতি তার বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হল। অঞ্জনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ঘুমালো দুইজন।

সকালে এক চিৎকারে জেগে উঠলো রঞ্জন। তমার গলার আওয়াজ এটা। রঞ্জন ছুটে গেল ওখানে। গিয়েই ভয়ে চোখ বড় হয়ে গেছে। মানহা ছুরি ধরে আছে তমার গলায়। নাকে মুখে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ। চুল এলোমেলো। চোখে কান্না আর মুখে অনেক রাগ ওর।
-আমায় ইরফানের ঠিকানা দাও রঞ্জন দা।
-মানহা, ছুরি সরাও।
-ঠিকানা দাও রঞ্জন দা, আমি জানিনা আমি কি করে বসবো।
-মানহা, ওকে ছাড়ো। তমাকে ছেড়ে দাও প্লিজ।
-ইরফানের খোঁজ শুধু আপনি জানেন। আমায় বলবেন কিনা?
-তুমি তমাকে ছাড়ো আগে। আমি সব বলবো।
-আমি ইরফানকে চাই, চাই, চাই।
-তুমি ইরফানকে আর পাবেনা।
-আমি তমা দিদিকে মেরে ফেলবো। তুমি ইরফানের খোঁজ আমায় দেবে কিনা?
-ইরফানের খোঁজ তুমি কেন, আমিও আর পাবো না।
-কেন পাবো না?
-কারণ ইরফান মারা গেছে আজ ২ বছর।
-আপনি মিথ্যা কথা বলছেন। রাগ করে বলছেন এটা আমি জানি।
-তাহলে কি এটাও জানো যে ইরফানকে তুমিই হত্যা করেছো?

হাত থেকে ছুরি পড়ে যায় মানহার। দৌড়ে তমাকে আড়াল করে পেছনে টেনে আনে রঞ্জন। পেছনে অঞ্জন এসে মাকে জড়িয়ে ধরে। মানহা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে রঞ্জনের দিকে। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না যেন।
কান্নায় ভেঙে পড়ে রঞ্জন। তারপর জোরে নিশ্বাস নিতে নিতে বলে সবকিছু।

-আমি গেছিলাম চৌধুরী প্লাজায়, যেদিন তোমরা বিয়ে করবে বলে ঠিক করেছিলে। গিয়ে দেখি ও খুব চিন্তার মধ্যে আছে। আমায় আঁকড়ে বললো,“ রঞ্জন মিনহাজ নাকি মানহাকে আজ সকালে গাড়ি গিফট করেছে। আর বলেছে ওই গাড়ি নিয়ে বিকালে ওদের পার্টিতে যেতে। ও নাকি হ্যাঁ বলেছে! একবারও ভাবলো না আমাদের বিয়ের ব্যাপারে! অথচ নিজেই বলেছে ওকে বিয়ে করে বাঁচাতে। ও নেশা ছেড়ে দেবে। ওরা নাকি খারাপ কাজ করাতে চায়। অনেক টাকা দিতে চায় মানহাকে। তাই বিয়ের ডিসিশান নিয়েছি আমি। তাও এভাবে। অথচ আবার আজ সকালেই এভাবে বদলে গেলো!”
ইরফান তখনই আমায় নিয়ে অনিকের বাইকে করে তোমাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলো। বাইক দাঁড় করাতেই ও লাফ দিয়ে নেমে তোমাদের বাড়ির দিকে যেতে থাকে। তুমি মিনহাজের নতুন দেয়া গাড়িটা চালাতে লাগছিলে। আমার ইরফান তোমার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। তুমি এতোটাই মগ্ন ছিলে যে ওকে দেখতেই পাওনি। একটানে চলে গেলে। ফিরেও তাকাওনি। হয়তোবা নেশায় বুঁদ ছিলে।

মানহা চিৎকার করে কান্না করছে। তমা হাত চেপে আছে রঞ্জনের। তমার দিকে কান্না চোখে তাকালো রঞ্জন।
-এই হাতে আমি আমার বন্ধুর চোখ দুটি বন্ধ করে দিয়েছি। এই কাঁধে তুলে নিয়ে ছিলাম ওর লাশ। নিজ হাতে দাফন করেছি। মাটি দিয়েছি। ওর এই দুনিয়ায় আমি ছাড়া আর কেউ ভরসার ছিল না। তাই আমি আর কাউকে বলিনি। মাটিতে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি আমার বন্ধুকে। আমার অভিমানী বন্ধু আজ নেই রে তমা, নেই। 

মানহা পাগলের মত পা আঁকড়ে ধরলো রঞ্জনের। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে মাথা ঠুকে কান্না করছে।
-দাদা আমি ইরফানের আওয়াজ শুনেছি রেস্টুরেন্টে। আপনার পাশেই তো ছিল। কিন্তু আমি যাওয়ার আগেই আপনি উঠে গেলেন তখন। আমি ওর আওয়াজ শুনেছি।

রঞ্জন উঠে গেল। ঘর থেকে ইরফানকে নিয়ে এলো সাথে। তবে ওর আওয়াজটা গেলো সবার কানে। রঞ্জনের মোবাইলে ইরফানের আওয়াজ। রেকর্ড করা আওয়াজ। কলেজের দিনের অভিমানী ইরফানের আওয়াজ।
“......টেবিলের উপর এক কাপ চা।
কখন যে ঠান্ডা হয়ে গেছে কেউ জানে না? আরও কিছুক্ষণ আগে হয়তো এই চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠেছিল। কিন্তু এখন আর কোন ধরনের ধোঁয়া নেই। টেবিলের উপর একটা বিল পড়ে আছে। বিলের ঠিক পাশেই কিছু টাকা আছে। হয়তো যে লোকটা এখানে বসে ছিল কিছুক্ষণ আগে তার টাকা। সে চলে গেছে। কিন্তু অর্ডার করা খাবারটা সে আর খায়নি। ওই ভাবেই পড়ে আছে সবকিছু। পাশেই একটা জ্বলন্ত সিগারেট প্রায় নিভু নিভু করছে। এভাবেই হয়তো ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকে কিছু অব্যক্ত ঘটনা।"

Written by Hasan Ibrahim.

Copying without permission
is strictly prohibited. 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ